আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই। আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও ফিরে আসবে না। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে। (সূত্রঃ মানবজমিন অনলাইন)

সম্প্রতি সারা বাংলাদেশে আলোচিত ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া মাত্র ৮ বছরের শিশু রামিসার হতভাগ্য পিতা কথাগুলো বলছিলেন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের শাসনামলের অপরাধ ও বিচারের চিত্র এর মধ্যেই ফুটে উঠে। সারাদেশে ১২ই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কারচুপির মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে এ সরকার। এরমধ্যেই সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার যে কাঠামো, তা ভেঙে পড়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সারাদেশে ৪৬৪টি হত্যা মামলা ও একই সময়ে ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। এর সর্বশেষ সংযোজন শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড। ধর্ষণের পর হত্যাই শুধু নয়, শরীর থেকে মাথা পৃথক করা হয়। এরপর দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে খুনি জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়।

সারাদেশে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, দেশে নজিরবিহীন এক দলীয়করণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ের কনস্টিটিউশনগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কে এই তারেক রহমান? যুক্তরাজ্যে ১৭ বছর নির্বাসনে থাকা জঙ্গিবাদের গডফাদার তারেক রহমান ছিলেন ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। একই সঙ্গে অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এমন একজন চিহ্নিত রাজনৈতিক জারজ সন্তান আজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এ রাজনীতিকের জন্মই হয়েছে রাজনীতির কালো সন্তান হিসেবে। এবং দেশের গণতন্ত্রের যে কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বিপদগামী করবে অদূর ভবিষ্যতে।

শুধুমাত্র এ দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমানই নন, তার পুরো পরিবারটিই বাংলাদেশের জন্য অভিশাপ। প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াও ছিলেন দুর্নীতিগ্রস্ত, রাজনৈতিকভাবে লম্পট একজন নারী। তাঁর বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ, চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতিসহ অসংখ্য অভিযোগ। তৎকালীন সময়ে বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতি, দলীয়করণ ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে যৌন মিলনের মধ্য দিয়ে সারাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিলেন। জঙ্গিদের গোপনাঙ্গের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন বেগম জিয়া। এবং জঙ্গিবাদের সঙ্গে সেদিনের সহবাসের ফসল আজকের তারেক রহমান। যার ধমনীতে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ প্রবাহিত।

এমন একজন কলুষিত রাজনীতিকের শাসনামল কেমন হতে পারে, তা সহজেই অনুধাবন করা যায়। যেখানে গত চার মাসে শুধুমাত্র ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব ঘটনার একটিরও এখন পর্যন্ত বিচার হতে দেখা যায়নি।

আমরা কোথায় যাব?

কার কাছে যাব?

আমাদের এখন কী হবে?

এসব এখন খুব স্বাভাবিক প্রশ্ন।

বর্তমানে বাংলাদেশের যিনি প্রধানমন্ত্রী, তিনি নিজেই যখন একজন ধর্ষক ও লম্পট। ২০০১-২০০৬ বিএনপির শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্যারালালে ছিল তাঁর তৈরি করা রাজনৈতিক হাওয়া ভবন। যেখান থেকে জঙ্গিবাদের নেটওয়ার্কসহ সারাদেশের অপরাধকর্মের নিয়ন্ত্রণ করা হতো। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অসংখ্য নারীর অভিযোগ রয়েছে, যাদের বিভিন্ন প্রলোভনে হাওয়া ভবনে নিয়ে এসে সে ও তার এক বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন নিজেদের যৌনসঙ্গী করত। ১/১১-এর সময় রিমান্ডের নামে আর্মির অফিসাররা তাঁর মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় শুধুমাত্র বিভিন্ন আর্মি অফিসারদের স্ত্রী-কন্যাদের সঙ্গে এ ধরনের জোরপূর্বক যৌনকর্মে বাধ্য করার কারণে। যা সে সময়কার পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতো না শুধুমাত্র তার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে। রাষ্ট্রের শাসকই যখন ভক্ষক, সে রাষ্ট্রে বিচারের সংস্কৃতি চালু করবে কে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top