একজন দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডারিং, মানহানি, রাষ্ট্রদ্রোহ সহ গ্রেনেড হামলার সাথে যুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামি। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এখন যদিও বেশ পুরনো।
কিন্তু যে বিষয়টি প্যারালাল পাওয়ার সেন্টার হিসেবে ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে থাকার কারণে বরাবরই আলোচনার বাহিরে থেকেছে সেটি তারেক রহমানের যৌন কেলেঙ্কারি। হাওয়া ভবন; ২০০১-২০০৬ খালেদা পুত্র তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়।
কিন্তু হাওয়া ভবনের কার্যক্রম কি এখানেই সীমাবদ্ধ ছিলো?
২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে কেন্দ্র করে হাওয়া ভবনের অপকর্ম দেশের জনগণের সামনে আসে। জঙ্গিবাদের কালো পুত্র তারেক রহমানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সারাদেশে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক, জঙ্গি নেতাদের সাথে একাধিক বৈঠক, পরিকল্পনা এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিতে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয় দেশীয় গণমাধ্যমে। একই সাথে চাঁদাবাজি, বদলি, পদোন্নতি এসব অভিযোগও তার সমান্তরালে বেশ আলোচিত হয়। কিন্তু যে বিষয়টি সবসময়ের জন্য অগোচরে থেকে যায়, তারেক রহমানের যৌন কেলেঙ্কারি।
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্র তারেক রহমান দুজনেই মদ্যপান ও যৌন কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত ছিলেন। বিধবা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তাঁরই সেসময়কার রাজনৈতিক উপদেষ্টা মোসাদ্দেক হোসেন ফালুর ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্তরালে বেশ আলোচিত হয়। একই সাথে কোন এক সন্ধ্যায় চাওড় হয়, হাওয়া ভবনে বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠিক আগমনের খবর। সেখানে তিনি ঢাকা বিমানবন্দর থেকে নেমেই সোজা কালো মাইক্রোবাসে উপস্থিত হন তারেক রহমানের খাস কামড়ায়। কথিত আছে, তাঁর বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের আমন্ত্রণেই তারেক রহমানের জন্য এ আয়োজন সম্পন্ন করা হয়।
তারেক রহমানের নারী আসক্তি ও বিভিন্ন সময়ে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগগুলোর সত্যতা সামনে আসে ১/১১ সরকারের সময় তারেককে গ্রেপ্তারের পরবর্তী সময়ে তার উপর অমানুষিত নির্যাতনের চিত্রগুলো থেকে। সেনা অফিসারকের সুন্দরী বউদের বিভিন্ন উপায়ে শয্যাসঙ্গি হতে বাধ্য করা হত। এবং যেসব অফিসারদের বউদের তারেক রহমান পছন্দ করতেন, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সেসব অফিসারদের বিদেশি মিশনে পাঠিয়ে দিতেন তারেক রহমান।
দুর্নীতি ও যৌনাচারী এমন একজন রাজনৈতিক নেতা বাংলাদেশের কথিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মধ্য দিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ এ প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সভা সমাবেশে ভুল বক্তব্য, উদ্দেশ্যহীন কর্ম পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে বেশ সমালোচিত। একই সাথে বিএনপি সরকার গঠনের পর সারাদেশে আশঙ্কাজনক ও নজিরবিহীন ভাবে বেড়েছে খুন ও ধর্ষণের মত ঘটনাগুলো। তারেকের এক সময়ের অবাধ যৌনাচারের ফসল বিএনপির এসকল নেতাকর্মীদের হাতে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষ ঠিক কতটা নিরাপদ সেটি এখন একটি বড় জিঞ্জাসা।
তারেক রহমানের মত এমন একজন চরিত্রের, সাজাপ্রাপ্ত আসামী রাজনৈতিক নেতা বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এ তারেক রহমান ১২ই ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে জুলাই সনদ সহ একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এমনকি জুলাই সনদের পক্ষে যে জনরায় সেটিকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে এই রাজনৈতিক কালো সন্তান তারেক রহমান।
রাজনৈতিক ভাবে দুশ্চরিত্রের অধিকারী এ তারেক রহমান ও প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।
