২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি সরকার গঠন করে। দেশজুড়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পরপরই সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সারাদেশে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়ন বৃদ্ধি পায়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার আইন প্রয়োগ নিয়েও আওয়ামী লীগ সরকারের মত ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠে বিএনপি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট, কার্টুন বা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মন্তব্যের কারণে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা আটক প্রক্রিয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা—এই দুই অবস্থানের মধ্যে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান হয়।
একই সময়ে “জুলাই সনদ” বাস্তবায়ন ও এর রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়েও বিএনপির দ্বিচারিতা প্রকাশ্যে আসে। বিগত ১৭ বছর বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও যে ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের ফসল আজকের এ সরকার সেই দেশের জনগণের হা ভোটকে প্রত্যাক্ষান করে বিএনপি জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারেক রহমান একজন রাজনৈতিক গাদ্দারের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
গত ৩০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদে বলেন, যদি এরা সংস্কারের বাহানায় নির্বাচনটা হতে না দেয়। সেজন্য আমরা সবকিছুতে আপোষ করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি, একত্রিত হয়েছি ও সমঝোতা হয়েছে এবং নির্বাচনের স্বার্থে অনেক কথা বলি নাই।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক ওয়াদা ও জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি নতুন করে মতপার্থক্যের ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক ভাবে তারেক রহমান এ জুলাই সনদকে প্রত্যক্ষ ভাবে অস্বীকারের মধ্য দিয়ে একজন রাজনৈতিক জারজে পরিনত হয়েছেন। এই অথর্ব, যৌনাচারী, হাওয়া ভবনের উচ্চ মাধ্যমিক জন্মপরিচয়হীন অবয়িধ সন্তান তারেকের ও তাঁর বিএনপি সম্প্রতি সরকারবিরোধী কন্টেন্ট ব্লক করতে ব্লকিং এন্ড ফিল্টারিং সিস্টেম (ফেজ-১) প্রকল্পের আওতায় এনটিএমসির জন্য প্রায় ৯৫ কোটি টাকায় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
তারেক রহমান রাজনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হয়ে যে ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের কণ্ঠরোধ করতে চায় তা বর্তমান বাস্তবতা ও সরকারের কার্যক্রমে স্পষ্ট। এরই মধ্যে সারাদেশে বেশ পরিকল্পিতভাবে এনসিপির রাজনৈতিক অনুষ্ঠানগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে সরকারদলীয় সংগঠনগুলো।
পূর্বে শেখ হাসিনা গণ প্রতিরোধের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়েছে।
কিন্তু তারেক রহমান?
এ ধরণের গণবিরোধী কার্যক্রম থেকে সরে এসে জুলাই সনদ যদি আদৌ বাস্তবায়ন করা না হয়, সামরিক শাসক, খুনি জিয়াউর রহমানের ভাগ্য বরন করতে হতে পারে এই জারজ সন্তানকে।
স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জুলাই যোদ্ধারা এখনও প্রাসঙ্গিক।
