বাংলাদেশে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের উত্থানের বিষয় যখন সামনে আসে, এমন প্রশ্ন তখন খুব স্বাভাবিক—এত জঙ্গি এলো কোথা থেকে?
রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকার বরাবরই এর দায় চাপানোর চেষ্টা করে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর উপর। কিন্তু এ দেশের মানুষ ধর্ম ও রাজনীতি সচেতন। স্পষ্টতই রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে আজকের যিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০২ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই সারাদেশে রাজনৈতিক মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। যেখানে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয় হাওয়া ভবনকে রাষ্ট্র ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখা হতো। এখান থেকেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিরোধী মত দমন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণে ধর্মীয় চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সাথে গভীর যোগাযোগের একটি ক্ষেত্র তৈরি করেন তারেক রহমান।
আজকের বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জঙ্গিবাদের ছায়া কি আবার ফিরছে—নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে খুব স্বাভাবিকভাবেই।
২১ আগস্ট ২০০৪-এর গ্রেনেড হামলা মামলার ২০১৮ সালের বিচারিক আদালতের রায়ে ১০ অক্টোবর জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ততা সহ পরিকল্পনা ও অনুমোদনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এবং একই সাথে তাঁকে জঙ্গিবাদের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। এ থেকেই বোঝা যায়, বিএনপি ও তারেক রহমান ধর্মীয় রাজনীতিকে ব্যবহার করে আসছে ঐতিহাসিকভাবেই নিজেদের রাজনৈতিক ফয়দা হাসিলের জন্য। কিন্তু ধর্মীয় রাজনৈতিক দল জামায়াতের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই।
সারাদেশে যখন ধর্মান্ধতা, মৌলবাদের চাষাবাদ হয়, জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির ৫ আগস্টের পর থেকে আজকের পরিবর্তিত বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, ক্যাম্পাসভিত্তিক সারাদেশে বিএনপি ও সন্ত্রাসবাদের রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
আফগানিস্তানের কট্টরপন্থী নৃশংস ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তালেবান; যারা ইসলামিক স্টেট, আইএস/ইসলামিক স্টেট নামে পরিচিত—এমন ইসলামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মত ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী, মৌলবাদী ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীদের আকস্মিক উত্থানও পরিলক্ষিত হচ্ছে বর্তমানে। যেখানে বিএনপি ও তারেক রহমানের মদদ রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ১৭ আগস্ট ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলা। ওই দিন দেশের ৬৩টি জেলায় প্রায় একই সময়ে সমন্বিতভাবে শত শত বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, যা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে জঙ্গি নেটওয়ার্কটি সুসংগঠিত ও বিস্তৃত ছিল।
বর্তমানে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পরবর্তী সময় থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে জঙ্গিবাদ দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংবেদনশীল ও উদ্বেগজনক ইস্যু। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে জঙ্গিদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ সামনে আসায় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের একজন পৃষ্ঠপোষক জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক পরিচয়ে আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এর দায় আছে বাংলাদেশের মানুষেরও। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের ঝুঁকি বাড়তে থাকে, যেখানে তারেক রহমানের রাজনৈতিক অতীত ও জঙ্গিবাদের প্রশ্ন বেশ প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশের মানুষ অতীতের সেই অন্ধকার সময় আবার দেখতে চায় না। উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা আজ দেশের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। জামায়াতে ইসলামী আজ জাতীয় সংসদে দেশের মানুষের নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে বেশ সরব ভূমিকা পালন করছে। যেখানে এটি স্পষ্ট হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের সামনে, জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি ধর্ম ইসলামকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার মধ্য দিয়ে ব্যবহার করতে চায়, তাদের জন্য ইসলামী এ রাজনৈতিক দলটি অন্তরায়। তাই আজ বিএনপির মত একটি জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন একযোগে জামায়াতে ইসলামীর মত একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।
