আজকের বাংলাদেশে তারেকের কারণে দেশে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আবারও। এখন বিভিন্ন জিহাদি গোষ্ঠী ধর্মীয় রাজনীতি, খেলাফতের দাবিতে সরব। এরই মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও গত ১০ আগস্ট তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেশে আল-কায়েদার ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এক অজানা আতঙ্ক—সেই ভয়াল হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস ও অতীতের হত্যাযজ্ঞ নতুন করে তাড়া করে বেড়াচ্ছে আজ আবারও।
চলতি বছরের জুলাই মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় ইসলামপন্থীদের মিছিল করতে। কালেমা-খচিত এসব পতাকায় ছিল আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ততার চিহ্ন। এটিই হলো মূল উদ্বেগের কারণ।
আফগানিস্তানের কট্টরপন্থী নৃশংস ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তালেবান; যারা ইসলামিক স্টেট, আইএস/ইসলামিক স্টেট নামে পরিচিত, তাদের পতাকার নকশার সঙ্গে এক ধরনের সাদৃশ্য পাওয়া যায় এসব পতাকার।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সাভারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বোমা ও বোমা বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এবং উদ্ধারের পরের দিন একটি বড় আকারের বোমা ধ্বংস করা হয়। এদের জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (নব্য-জেএমবি) সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর থেকেই দেশে এসব ইসলামপন্থীদের আকস্মিক উত্থান ও এদের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসে শুধুমাত্র বিএনপি ও তারেক রহমানের ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে।
এই ব্যক্তি তারেক রহমান শুধুমাত্র একজন কালো তালিকাভুক্ত রাজনীতিবিদই নন, তাঁর শাসনামলেই দেশের জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, হত্যাযজ্ঞ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
সারাদেশ আজ এক অদৃশ্য কারাগার। যেখানে তারেক রহমানের অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে ভয়, শঙ্কা এবং নাগরিক নিরাপত্তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর মতো ইসলামী আদর্শের গণতান্ত্রিক ভাবধারায় আস্থা রাখা রাজনৈতিক দলটিকে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের মাধ্যমে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। যেখানে বিরোধী মতামতকে দেশের আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বহীন করে ফেলা হয়েছে।
এই তারেক রহমান বাংলাদেশের জন্য লজ্জা। জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর টেলিভিশনে ভাঙা স্যুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জি দেখানো হয় জাতিকে। সামরিক শাসক, স্বৈরাচার, খুনি জিয়াকে সততার মূর্ত প্রতীক বানানো হলো।
কয়েক বছরের মধ্যেই দেখা গেল, জিয়া পরিবার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক। লঞ্চ, টেক্সটাইল মিলস, বিদেশে বাড়ি, ব্যাংক-ব্যালান্স—এগুলো হঠাৎ কোথা থেকে এলো?
হঠাৎ করে এত টাকার মালিক হলো কীভাবে? পুরো জিয়া পরিবার, অর্থাৎ প্রয়াত বেগম জিয়া, তারেক, কোকো—সবাই শুধু অসৎ নয়, পুরো জিয়া পরিবার চরম দুর্নীতিবাজ, জিঘাংসাপরায়ণ, ক্ষমতালোভী। আদালতে খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের দুর্নীতির প্রমাণ হয়েছে এবং সাজা হয়েছিল। আজকের জুলাই অভ্যুত্থান না হলে এই দুর্নীতিবাজ, খাম্বা তারেক সেই লন্ডনেই পলাতক অবস্থায় জীবন পার করত।
বিদ্যুৎ খাতে তারেকের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে খাম্বা তারেক হিসেবে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে বেশ প্রচার পায় আজকের এই দুর্নীতিবাজ প্রধানমন্ত্রী।
আগামীর বাংলাদেশ এই দুর্নীতিবাজ পরিবার থেকে উঠে আসা রাজনীতির কালো বিড়াল তারেক রহমানের মাধ্যমে বিনির্মাণ সম্ভব নয়। আগামীতে এই বিএনপির পতন অনিবার্য। শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামীর মতো সৎ নেতৃত্বের শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
